নারীর মন আকাশের রং!

in BDCommunity3 years ago

নারী কে নিয়ে ছোট বেলা থেকে অনেক শুনেছি। তা যেমন আছে নেতিবাচক তেমন ইতিবাচক ও আছে। তার মধ্যে সবচেয়ে প্রচলিত একটা কথা হচ্ছে নারীর মন নাকি স্বয়ং বিধাতাও বুঝে না। বিধাতার বুঝা না বুঝার বিতর্কে আমি যাবনা এত ক্ষমতা আমার নেই।নারী যে নিজেই নিজেকে বুঝেনা সেটা আমি জোর দিয়ে বলতে পারি। ঐ যে পুরুষেরা কথায় কথায় বলে নারীর মন আকাশের রং। আসলেই নারীর মন আকাশের রং। ক্ষণে ক্ষণে রং বদলায়।আজ আমার ছোট জায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে গিয়ে আমার মনে হলো নারীরা ক্ষনে ক্ষণে রং বদলায় বলেই পৃথিবীটা এত সুন্দর হয়েছে। নারীদের মন কোন একটা বিষয়ে আটকে থাকে না বলেই গড়ে উঠে পরিবার কিংবা সুন্দরতম সমাজ।

আমার বরের তিন ভাই। ও মেজু। বড় ভাই ২০০৩সালে বিয়ে করেছে। আমার ছোট দেবর বিয়ে করেছে চার বছর তিন মাস হয়েছে। ওদের আট মাস বয়সী একটা ছেলে আছে। প্রতিদিন দুই থেকে তিন বার ওদের সাথে আমার কথা হয় ফোনে। বেশির ভাগ সময় ভিডিও কল করা হয়।তাই ওদের প্রতিদিন দেখা হয়। আমার দেবরের বাচ্চা ছেলেটা প্রায় সব সময় খালি গায়ে মানে ল্যাংটু থাকে। আমি প্রতিদিন বলি ওকে প্যান্ট পড়িয়ে অভ্যাস করতে। আমার ছোট জা মেক্সি পড়ে। একটু এলোমেলো অবস্থায় থাকে। গত পরশু ওরা বেড়াতে গেছে আমার ছোট জায়ের বাপের বাড়িতে। ওরা মানে আমার দেবর, তার বৌ আর ছেলে। এই দুই দিন আমার সাথে কথা হয়নি।

আজ সকালে আমার ছোট জা ভিডিও কল করেছে। ওর বাপের বাড়ি থেকে। ছেলেকে একটা প্যান্ট পড়িয়ে রাখছে। আমার ছোট জা একটা গোলাপি রঙের মেক্সি পড়ে আছে। চুলগুলো সুন্দর ভাবে বেনি করা। মুখটা চকচক করছে। মা ছেলে দুজনকেই খুব সুন্দর দেখাচ্ছে। আমি হেসেহেসে বললাম বাহ্ তোমাদেরকে হ্যান্ডসাম দেখাচ্ছে।আমার ছোট জা বলে উঠলো অন্যের বাড়িতে কি নরমাল ভাবে থাকা যায় একটু হ্যান্ডসামই থাকতে হয়। আমি চমকে উঠলাম।

আমার জায়ের বয়স এখন ২১ হবে।যখন বিয়ে হয় ওর বয়স ছিলো ১৭ বছর।যে বাড়িতে সে জন্মেছে, যেখানে হামাগুড়ি দিয়ে হাঁটতে শিখেছে সবচেয়ে বড় কথা যে বাড়িতে সে ১৭টা বছর কাটিয়েছে সে বাড়িকে অন্যের বাড়ি বলতে ওর বুখ কাঁপেনি। চার বছর আগে একজনের হাত ধরে এসেছে যে বাড়িতে সেটাই তার নিজের বাড়ি।যদি নারী তার রং বদলাতে না পারতো তাহলে কি এটা সম্ভব হতো প্রশ্ন রইলো পুরুষ জাতির কাছে যারা কথায় কথায় বলে নারীর মন আকাশের রং।

আমার এক পরিচিত তার বাড়ি সাভারে। অনেক বছর মালয়েশিয়াতে আছেন। ভালোবেসে বিয়ে করেছেন এক ইন্দোনেশিয়ান নাগরিক কে। এমন অনেক বাঙ্গালী আছে যারা ইন্দোনেশিয়ান মেয়ে বিয়ে করেন।ব্যাপারটা আমার কাছে খুবই স্বাভাবিক। তবে গত ঈদে সাভারের ঐ ভাই আমাদের দাওয়াত করেন।ওনার বাসায় দাওয়াত খেতে যেতে আমার একটু ভয় হচ্ছিল। ইন্দোনেশিয়ান বউ কেমন হবে আর কি সব রান্না করবে খেতে পারবো কিনা। কারণ ইন্দোনেশিয়ান রান্না সম্পর্কে আমার ধারণা আছে ওরা মরিচ, চিনি আর তেতুল ছাড়া রান্না করে না।আমার খুব বিরক্ত লাগে ওদের ঝালের মাঝে মিষ্টি খাওয়া দেখলে।আর সব রান্নায় "আজিনামটো" এক ধরনের টেস্টি সল্ট। কিন্তু ওনার বাসায় গিয়ে আমি অবাক আমাদের সাথে ওনার স্ত্রী বাংলায় কথা বলছে।খেতে বসেতো আমি বিস্মিত পায়েস, সেমাই,পোলাও মুরগির রোস্ট, গরুর মাংস এতো ভালো রান্না করেছে যে অনেক খাঁটি বাঙালী বউ এর ধারে কাছে পৌঁছাতে পারবে না। ঠিক যেন পানির মতো যে পাত্রে রাখা হয়েছে তার সাথে মিলেমিশে এক হয়ে গেছে।

তাই আমার মনে হয় এই রং বদলটা নারীর জন্য নয় মানব জাতির জন্য এটা অপরিহার্য। দুই একজন যদি এই রং বদলটা খারাপ ভাবে ব্যবহার করে তাই তুমি সমগ্র নারী জাতিকে দোষারোপ করতে পারনা।

little-girl-smiles-lifts-up-his-eyes-hands-prayer_71593-911.jpg